ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৮নং ওয়ার্ড শিয়ালউড়ী বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী প্রস্তুতী ও পরামর্শ সভার আয়োজন গোপশহর প্রবাসী ট্রাস্ট ইউকে’র প্রথম মত বিনিময় সভা ও নৈশভোজ। যাত্রী আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে সিলেট থেকে হরষপুর পর্যন্ত আন্দোলন করলেও মৌলভীবাজার লাভবান হবিগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন পেলেন সৈয়দ মো. ফয়সল মাধবপুরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি-চুরির মামলা চাঞ্চল্যকর জিয়া হত্যা: দীর্ঘ এক বছর পর আপন ভাই বাবুল গ্রেফতার, পরিবারের দিকেই সন্দেহের তীর গোপশহর প্রবাসী ট্রাস্ট ইউকে’র দ্বীবার্ষিক সম্মেলন ও নতুন কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত রেলের টিকেট ঘরে বসে বুকিং আর নয়, স্টেশনে গেলেই “দৈত্যের” হাতে মিলবে রেলের টিকিট! আমিরাতে লটারি জিতে একসঙ্গে ভাগ্য খুলে গেল দুই বাংলাদেশির মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম

আমি ভালো নেই : আকবর আলি খান


ভালো নেই ড. আকবর আলি খান। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই বিদ্বজ্জন এখন শোককাতর, দিশেহারা। মাত্র ২৭ বছর বয়স থেকে যিনি প্রতিনিয়ত দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন সাম্প্রতিককালে তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। না সভা-সমিতিতে, না গণমাধ্যমে। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী কালে দেশ গঠন বা দেশের যে কোনো সঙ্কটে দেশবাসী যাকে সব সময় সামনের সারিতে পেয়েছে সাম্প্রতিককালে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই। কোথায় আছেন, কেমন আছেন এক সময়ের এই ঝানু সফল আমলা, সিএসপি অফিসার আকবর আলি খান?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশানের ৭৭ নম্বর রোডের নিজ ফ্ল্যাটের মধ্যে নিজেকে গত কিছু দিন যাবত গুটিয়ে রেখেছেন ড. আকবর আলি খান।

টেলিফোনে সব সময় সহজে কথা বলা যায় এই গুণী মানুষটির সঙ্গে। বিশেষ কোনো কাজের ঝমেলা না থাকলে কখনোই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে যান না তিনি। সংবাদকর্মীদের সাদরে গ্রহণ করেন, স্বভাবসুলভ সরলতা ও সাবলীলতার সঙ্গে নানান প্রশ্নের উত্তর দেন। নানান বিষয় বিশ্লেষণ করেন।

এ গুণী মানুষটির কুশল জানতে এবং সাম্প্রতিক নীরবতার কারণ জানতে কল করা হয় আকবর তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে। কিছুটা আক্ষেপ আর বিরক্তি নিয়ে কথা শুরু করেন তিনি, যার সঙ্গে তাঁর নিকট অতীতের বাচনভঙ্গি আর হৃদ্যতার অনেকটাই অমিল। পরিচয় দেওয়ার পর ড. খান নিজ থেকেই বলে ওঠেন, ‘কেন ফোন করেছেন? আপনারা রিপোর্টাররা তো শুধু রিপোর্টের জন্য ফোন করেন। আমি কোনো কিছু নিয়ে কিছু বলবো না। আাপনারা কি জানেন আমার একমাত্র মেয়ে মারা গেছে?’

খবরটি পরিবর্তন ডটকম জানে এবং তাকে সহানুভূতি জানানোর জন্য টেলিফোন করেছি- এ কথা জানালে ধন্যবাদ দিয়ে টেলিফোন রেখে দেন ড. আকবর আলি খান।

উল্লেখ্য, ড. আকবর আলি খান দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁকে দেখাশোনা করতেন তাঁর একমাত্র মেয়ে। থাকতেন পাশের ফ্ল্যাটেই। সম্প্রতি সেই মেয়ের অকালমৃত্যুতে যার পর নাই ভেঙে পড়েছেন তিনি।

আকবর আলি খান যে বাড়িতে থাকেন শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে কথা হয় সেই বাড়ির দারোয়ান সাদ্দামের সঙ্গে। সাদ্দাম জানান, ‘কদিন আগে স্যারের মেয়ে মারা গেছেন’। এর বেশি কিছু বলতে চাননি সাদ্দামও।

আকবর আলি খানের সঙ্গে কথা বলতে তার ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা গেলো তিনি বিমর্ষ হয়ে বসে আছেন তার স্টাডি রুমের চেয়ারটিতে। চোখ দিয়ে যেন দূরের কিছু খুঁজছেন। তার রুমে গিয়ে সালাম দিতেই মনে হলো তার নিম্নগ্নতায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। একদৃষ্টিতে খানিকটা তাকিয়ে থেকে তিনি বললেন, ‘যাও, গিয়ে লিখে দাও- আমি ভালো নেই।’

আকবর আলি খানের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। নবীনগরে স্কুলজীবন পার করে ১৯৬১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে ১৯৬৫ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পূর্বে তিনি কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে তিনি লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণশেষে ১৯৭০ সালে হবিগঞ্জ মহুকুমার প্রশাসক (এসডিও) হিসেবে পদস্থ হন। তিনি তার এলাকায় সুষ্ঠুভাবে ১৯৭০-এর নির্বাচন পরিচালনা করেন।

আকবর আলি খান একজন ঝানু আমলা, অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের এসডিও ছিলেন এবং যুদ্ধের সময় সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রাখার কারণে তাঁর বিচার করে পাকিস্তান সরকার। তাঁকে ১৪ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। পরে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কায় অন্য দুজন উপদেষ্টাসহ একযোগে পদত্যাগ করেন অন্যায়ের সঙ্গে আপোস না করা আকবর আলি খান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৮নং ওয়ার্ড শিয়ালউড়ী বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী প্রস্তুতী ও পরামর্শ সভার আয়োজন

আমি ভালো নেই : আকবর আলি খান

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


ভালো নেই ড. আকবর আলি খান। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই বিদ্বজ্জন এখন শোককাতর, দিশেহারা। মাত্র ২৭ বছর বয়স থেকে যিনি প্রতিনিয়ত দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন সাম্প্রতিককালে তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। না সভা-সমিতিতে, না গণমাধ্যমে। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী কালে দেশ গঠন বা দেশের যে কোনো সঙ্কটে দেশবাসী যাকে সব সময় সামনের সারিতে পেয়েছে সাম্প্রতিককালে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই। কোথায় আছেন, কেমন আছেন এক সময়ের এই ঝানু সফল আমলা, সিএসপি অফিসার আকবর আলি খান?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশানের ৭৭ নম্বর রোডের নিজ ফ্ল্যাটের মধ্যে নিজেকে গত কিছু দিন যাবত গুটিয়ে রেখেছেন ড. আকবর আলি খান।

টেলিফোনে সব সময় সহজে কথা বলা যায় এই গুণী মানুষটির সঙ্গে। বিশেষ কোনো কাজের ঝমেলা না থাকলে কখনোই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে যান না তিনি। সংবাদকর্মীদের সাদরে গ্রহণ করেন, স্বভাবসুলভ সরলতা ও সাবলীলতার সঙ্গে নানান প্রশ্নের উত্তর দেন। নানান বিষয় বিশ্লেষণ করেন।

এ গুণী মানুষটির কুশল জানতে এবং সাম্প্রতিক নীরবতার কারণ জানতে কল করা হয় আকবর তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে। কিছুটা আক্ষেপ আর বিরক্তি নিয়ে কথা শুরু করেন তিনি, যার সঙ্গে তাঁর নিকট অতীতের বাচনভঙ্গি আর হৃদ্যতার অনেকটাই অমিল। পরিচয় দেওয়ার পর ড. খান নিজ থেকেই বলে ওঠেন, ‘কেন ফোন করেছেন? আপনারা রিপোর্টাররা তো শুধু রিপোর্টের জন্য ফোন করেন। আমি কোনো কিছু নিয়ে কিছু বলবো না। আাপনারা কি জানেন আমার একমাত্র মেয়ে মারা গেছে?’

খবরটি পরিবর্তন ডটকম জানে এবং তাকে সহানুভূতি জানানোর জন্য টেলিফোন করেছি- এ কথা জানালে ধন্যবাদ দিয়ে টেলিফোন রেখে দেন ড. আকবর আলি খান।

উল্লেখ্য, ড. আকবর আলি খান দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁকে দেখাশোনা করতেন তাঁর একমাত্র মেয়ে। থাকতেন পাশের ফ্ল্যাটেই। সম্প্রতি সেই মেয়ের অকালমৃত্যুতে যার পর নাই ভেঙে পড়েছেন তিনি।

আকবর আলি খান যে বাড়িতে থাকেন শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে কথা হয় সেই বাড়ির দারোয়ান সাদ্দামের সঙ্গে। সাদ্দাম জানান, ‘কদিন আগে স্যারের মেয়ে মারা গেছেন’। এর বেশি কিছু বলতে চাননি সাদ্দামও।

আকবর আলি খানের সঙ্গে কথা বলতে তার ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা গেলো তিনি বিমর্ষ হয়ে বসে আছেন তার স্টাডি রুমের চেয়ারটিতে। চোখ দিয়ে যেন দূরের কিছু খুঁজছেন। তার রুমে গিয়ে সালাম দিতেই মনে হলো তার নিম্নগ্নতায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। একদৃষ্টিতে খানিকটা তাকিয়ে থেকে তিনি বললেন, ‘যাও, গিয়ে লিখে দাও- আমি ভালো নেই।’

আকবর আলি খানের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। নবীনগরে স্কুলজীবন পার করে ১৯৬১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে ১৯৬৫ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পূর্বে তিনি কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে তিনি লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণশেষে ১৯৭০ সালে হবিগঞ্জ মহুকুমার প্রশাসক (এসডিও) হিসেবে পদস্থ হন। তিনি তার এলাকায় সুষ্ঠুভাবে ১৯৭০-এর নির্বাচন পরিচালনা করেন।

আকবর আলি খান একজন ঝানু আমলা, অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের এসডিও ছিলেন এবং যুদ্ধের সময় সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রাখার কারণে তাঁর বিচার করে পাকিস্তান সরকার। তাঁকে ১৪ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। পরে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কায় অন্য দুজন উপদেষ্টাসহ একযোগে পদত্যাগ করেন অন্যায়ের সঙ্গে আপোস না করা আকবর আলি খান।