ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৮নং ওয়ার্ড শিয়ালউড়ী বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী প্রস্তুতী ও পরামর্শ সভার আয়োজন গোপশহর প্রবাসী ট্রাস্ট ইউকে’র প্রথম মত বিনিময় সভা ও নৈশভোজ। যাত্রী আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসে সিলেট থেকে হরষপুর পর্যন্ত আন্দোলন করলেও মৌলভীবাজার লাভবান হবিগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন পেলেন সৈয়দ মো. ফয়সল মাধবপুরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি-চুরির মামলা চাঞ্চল্যকর জিয়া হত্যা: দীর্ঘ এক বছর পর আপন ভাই বাবুল গ্রেফতার, পরিবারের দিকেই সন্দেহের তীর গোপশহর প্রবাসী ট্রাস্ট ইউকে’র দ্বীবার্ষিক সম্মেলন ও নতুন কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত রেলের টিকেট ঘরে বসে বুকিং আর নয়, স্টেশনে গেলেই “দৈত্যের” হাতে মিলবে রেলের টিকিট! আমিরাতে লটারি জিতে একসঙ্গে ভাগ্য খুলে গেল দুই বাংলাদেশির মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম

ট্রাম্পের মুসলিম নিষিদ্ধের আদেশে জাকারবার্গের উদ্বেগ

শরণার্থী সীমিতকরণে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশে নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। নিজের পূর্ব প্রজন্মের শরণার্থী জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ এবং তারা আমাদের গর্ব’।

শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে তিন মাসের জন্য ৭ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে স্থগিতাদেশ দেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি শরণার্থী কর্মসূচি চার মাসের জন্য স্থগিত করেন তিনি। তবে সব শরণার্থীর বেলায়, কর্মসূচি স্থগিতের মেয়াদ নির্দিষ্ট ৪ মাস হলেও সিরিয়ার ক্ষেত্রে এই মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের। প্রশাসনের শরণার্থী সীমিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন নবনির্বাচিত এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়। এভাবেই, যেন শরণার্থীদের বিভাজন-সূত্র প্রকাশ করলেন ‘বিভক্তির প্রেসিডেন্ট’!

এক বিবৃতিতে জাকারবার্গ জানান, তার প্র-পিতামহরা জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং তার স্ত্রীর বাবা-মা চীন ও ভিয়েতনামের অভিবাসী। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ, এবং আমাদের তা নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। আমাদের উচিত শরণার্থী এবং যাদের সহায়তা দরকার তাদের জন্যও আমাদের দুয়ার খোলা রাখা। সেটাই আমাদের বৈশিষ্ট্য। কয়েক দশক আগে যদি আমরা শরণার্থীদের তাড়িয়ে দিতাম তবে প্রিসসিলার (জাকারবার্গের স্ত্রী) পরিবার আজ এখানে থাকতো না।’
যেসব অনিবন্ধিত অভিবাসী শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে তাদেরকে কাজের সুযোগ দিতে বারাক ওবামা যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তা ট্রাম্প পাল্টে দেবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি ।
শরণার্থী কর্মসূচি স্থগিত ও মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে গিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদেশ জারির পর পরই এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। গুগলের পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা নেচিবাচক হবে বলে তারা মনে করছেন। গুগল বিবিসিকে বলেছে, ‘কোনও দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার ক্ষুণ্ন করা হলে তা আমেরিকার জন্য নেতিবাচকই হবে। আমরা মেধাবি মানুষদের বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হব। ’
দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) নামের এক বিখ্যাত আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, নয়া প্রেসিডেন্টের এই আদেশ সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদেশটিকে একটি ফেডারেল মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের এ আদেশের মূল উদ্দেশ্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতনামা ব্যক্তিরা ট্রাম্পের আদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৮নং ওয়ার্ড শিয়ালউড়ী বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী প্রস্তুতী ও পরামর্শ সভার আয়োজন

ট্রাম্পের মুসলিম নিষিদ্ধের আদেশে জাকারবার্গের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৭

শরণার্থী সীমিতকরণে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশে নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। নিজের পূর্ব প্রজন্মের শরণার্থী জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ এবং তারা আমাদের গর্ব’।

শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে তিন মাসের জন্য ৭ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে স্থগিতাদেশ দেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি শরণার্থী কর্মসূচি চার মাসের জন্য স্থগিত করেন তিনি। তবে সব শরণার্থীর বেলায়, কর্মসূচি স্থগিতের মেয়াদ নির্দিষ্ট ৪ মাস হলেও সিরিয়ার ক্ষেত্রে এই মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের। প্রশাসনের শরণার্থী সীমিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন নবনির্বাচিত এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়। এভাবেই, যেন শরণার্থীদের বিভাজন-সূত্র প্রকাশ করলেন ‘বিভক্তির প্রেসিডেন্ট’!

এক বিবৃতিতে জাকারবার্গ জানান, তার প্র-পিতামহরা জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং তার স্ত্রীর বাবা-মা চীন ও ভিয়েতনামের অভিবাসী। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ, এবং আমাদের তা নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। আমাদের উচিত শরণার্থী এবং যাদের সহায়তা দরকার তাদের জন্যও আমাদের দুয়ার খোলা রাখা। সেটাই আমাদের বৈশিষ্ট্য। কয়েক দশক আগে যদি আমরা শরণার্থীদের তাড়িয়ে দিতাম তবে প্রিসসিলার (জাকারবার্গের স্ত্রী) পরিবার আজ এখানে থাকতো না।’
যেসব অনিবন্ধিত অভিবাসী শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে তাদেরকে কাজের সুযোগ দিতে বারাক ওবামা যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তা ট্রাম্প পাল্টে দেবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি ।
শরণার্থী কর্মসূচি স্থগিত ও মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে গিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদেশ জারির পর পরই এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। গুগলের পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা নেচিবাচক হবে বলে তারা মনে করছেন। গুগল বিবিসিকে বলেছে, ‘কোনও দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার ক্ষুণ্ন করা হলে তা আমেরিকার জন্য নেতিবাচকই হবে। আমরা মেধাবি মানুষদের বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হব। ’
দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) নামের এক বিখ্যাত আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, নয়া প্রেসিডেন্টের এই আদেশ সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদেশটিকে একটি ফেডারেল মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের এ আদেশের মূল উদ্দেশ্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতনামা ব্যক্তিরা ট্রাম্পের আদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।